গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH)


Mohakhali, Dhaka-1212

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH)


Mohakhali, Dhaka-1212

আমাদের সম্পর্কে

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICRH): একটি ধারাবাহিক ইতিহাস
ক্যান্সার চিকিৎসার সূচনা পর্ব (১৯৮২–১৯৯০)
বাংলাদেশে সংগঠিত ক্যান্সার চিকিৎসার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সে সময় ক্যান্সার চিকিৎসা ছিল সীমিত পরিসরে ও প্রকল্পভিত্তিক। তবুও, এটি ছিল দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রথম সংগঠিত উদ্যোগ।
১৯৮৬ সালে রোটারি ক্লাব অব ঢাকার সহযোগিতায় ক্যান্সার সেবাকে মহাখালীর একটি স্বতন্ত্র ভবনে স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত কেন্দ্র গড়ে ওঠে।
১৯৮৯–১৯৯০ সময়কালে বাংলাদেশ সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। অনুমোদিত জনবল কাঠামো তৈরি হয় এবং স্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
স্বতন্ত্র ক্যান্সার হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা (১৯৯১–১৯৯৪)
১৯৯১ সালে মহাখালীতে নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে ৫০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল সেবা শুরু করে। এর মাধ্যমে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে সরকার পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা ৩০০-তে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICRH)
আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সূচনা (১৯৯৫–১৯৯৯)
১৯৯৫ সালে NICRH-এ প্রথমবারের মতো কোবাল্ট-৬০ টেলিথেরাপি মেশিনের মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। একই বছরে হাসপাতালটিকে উন্নয়ন বাজেট থেকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৯৯৬ সালে সিজিয়াম-১৩৭ মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে ব্র্যাকিথেরাপি সেবা চালু হয়। এই সময়কালে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ—উভয় সেবাই ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হতে থাকে।
অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিকাশ (২০০০–২০০৫)
২০০২ সালে মহাখালীতে নতুন ৩০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০৩ সালে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (SFD)-এর আংশিক অর্থায়নে হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রথম ধাপ অনুমোদিত হয়।
২০০৪ সালে রেডিয়েশন অনকোলজি, মেডিকেল অনকোলজি ও সার্জিক্যাল অনকোলজিতে MD ও MS কোর্স চালুর মাধ্যমে স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
২০০৫ সালে দেশের প্রথম হাসপাতালভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি চালু হয়, যা ক্যান্সার গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন (২০০৬–২০০৯)
২০০৬ সালে ক্যান্সার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় ও সম্প্রসারিত হয়। ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো NICRH-এ লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর (LINAC) ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যানিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়।
২০০৯ সালে হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। ব্লাড ব্যাংক ও জরুরি সেবা চালু হয় এবং LINAC-এর ক্লিনিক্যাল ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়।
ক্লিনিক্যাল সেবার শক্তিশালীকরণ (২০১০–২০১৪)
২০১৩ সালে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ICU সেবা চালু হয়। একই বছরে টেলিমেডিসিন সেবা শুরু করে দূরবর্তী অঞ্চলের রোগীদের সেবার আওতায় আনা হয়।
২০১৪ সালে চতুর্থ আধুনিক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর স্থাপন করা হয়, ফলে রেডিওথেরাপি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার হাসপাতালে রূপান্তর (২০১৫–২০১৮)
২০১৫ সালে NICRH একটি পূর্ণাঙ্গ ৩০০ শয্যার হাসপাতালে পরিণত হয়। CT সিমুলেটর, কোলপোস্কপি, কেমোথেরাপি সেফটি ক্যাবিনেট এবং নারীদের জন্য বিনামূল্যে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালু হয়।
২০১৬ সালে নার্সিং জনবল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। ২০১৭ সালে হাসপাতাল ও প্রশাসনিক ভবনের মধ্যে সংযোগকারী করিডোর এবং দুটি নতুন অপারেশন থিয়েটার যুক্ত হয়।
২০১৮ সালে ৩০০ আসনবিশিষ্ট আধুনিক অডিটোরিয়াম উদ্বোধন করা হয়। কিউ ম্যানেজমেন্ট, কাউন্সেলিং সেবা, সচেতনতামূলক ডিসপ্লে বোর্ড, নতুন CT স্ক্যানার ও MRI মেশিন স্থাপন সম্পন্ন হয়।
ডিজিটালাইজেশন ও গবেষণা বিস্তার (২০১৯–২০২১)
২০১৯ সালে NICRH-এর সরকারি ওয়েবসাইট চালু হয় এবং হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০২০ সালে বহুতল D-ব্লক সম্পন্ন হয় এবং একাধিক বিভাগ নতুন পরিসরে স্থানান্তরিত হয়। একই বছরে Cancer Journal of Bangladesh প্রকাশনা শুরু হয়।
২০২১ সালে RT-PCR ল্যাব চালু হয় এবং হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০০ শয্যার কার্যক্রম শুরু করে। অর্গানভিত্তিক সার্জিক্যাল অনকোলজি ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (২০২২–২০২৬)
২০২৩ সালে হাসপাতাল অটোমেশন ও ডিজিটাল সিস্টেমের প্রথম ধাপ চালু হয়। ২০২৪ সালে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ইয়ারবুক প্রকাশিত হয়।
২০২৬ সালে নতুন স্বাধীন হাসপাতাল প্ল্যাটফর্ম ও আধুনিক ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে NICRH বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ সরকারি সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র, যেখানে আধুনিক চিকিৎসা, গবেষণা, শিক্ষা ও জাতীয় ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

উদ্দেশ্য

উন্নতমানের ক্যান্সার চিকিৎসা প্রদান

দেশে একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা

গবেষণা পরিচালনা এবং জ্ঞান ও ফলাফল প্রচার করা

দেশব্যাপী একটি ক্যান্সার রেজিস্ট্রি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা

ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা

এক্টিভিটি

ক্যান্সার সনাক্তকরণের জন্য সকল রোগ নির্ণয়মূলক কার্যক্রম
সকল ধরণের চিকিৎসা - সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ইত্যাদি।
হাসপাতাল-ভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি
এটি আমাদের দেশে ৪টি সাধারণ ক্যান্সারের জন্য উচ্চমানের, সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্সার চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য জাতীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।
স্বাস্থ্য পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি - হিস্টোপ্যাথোলজিস্ট, গাইনোকোলজিস্ট, নার্স, প্রযুক্তিবিদ, সম্প্রদায়ের নেতা ইত্যাদি।
সম্প্রদায়ে তামাক প্রতিরোধ ও বর্জন কর্মসূচি আয়োজন।
জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ - যেমন বিশ্ব ক্যান্সার দিবস, বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস, তামাকমুক্ত দিবস, স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার সচেতনতা মাস পালন এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের বিজয় মাসে বিশেষ স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং অভিযানের সূচনা।
টেলিমেডিসিন পরিষেবা
এনআইসিআরএইচ জার্নাল প্রকাশ
প্যালিয়েটিভ কেয়ার পরিষেবা
একাডেমিক কার্যক্রম

NICRH